নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে সরকার ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশনা থাকলেও বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ে সেই নির্দেশনা প্রতিপালনের কোনো চিত্র দেখা যায়নি।
বুধবার (১৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনে পতাকাদণ্ড থাকলেও সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। ফলে সরকার ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোক পালনের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা ওই কার্যালয়ে বাস্তবায়িত হয়নি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রীয় শোক উপলক্ষে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সব ধরনের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা এবং দেশের মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজনের কথাও উল্লেখ করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সচেতন নাগরিক বলেন, সরকার ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোকের দিন একটি সরকারি কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে চরম অবহেলার পরিচয় বহন করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, জাতীয় পতাকা দেশের মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রতীক। রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ না করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় দায় নিরূপণ করে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বিষয়টি জানতে চাইলে বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রনজিত কুমার সরকার বলেন, “শোক সম্পর্কে আমি জানি না। এটাই আমার স্পষ্ট বক্তব্য। আপনারা সংবাদ প্রকাশ করলে করেন।”
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন খন্দকার বলেন, “বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সরকারের জারি করা রাষ্ট্রীয় শোক পালনের নির্দেশনা কার্যকরের দিন বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না হওয়ার ঘটনাটি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। জেলা প্রশাসকের তদন্তের পর এ ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।