জিয়াউদ্দিন সিকদারকে ফাঁসাতে মিথ্যা অপপ্রচার, দাবি বিএনপি নেতাকর্মীদের!
নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশাল নগরীর রুপাতলী এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণাকালে এক উঠান বৈঠকের সামনে দিয়ে ফেরার পথে হামলার ঘটনায় নতুন করে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে।
গত রোববার নগরীর ২৫ নং ওয়ার্ডস্থ রুপাতলী হাজ্বী পাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় উভয়পক্ষের প্রায় ১০ জন আহত হয়েছে। এদিকে ঘটনাটিকে ইস্যু বানিয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারকে নিয়ে একটি অসাধু মহল নানান অপকৌশল অবলম্বন করেছেন। ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা কিংবা সুত্রপাত কোন কিছু না জানলেও প্রতিপক্ষ মহলটি রাজনৈতিকভাবে ফায়দা হাসিলে শীর্ষ এ নেতাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও অহেতুক তথ্য উপস্থাপন করে যাচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারের সঙ্গে ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় ও ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
জানা গেছে, গত রোববার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে বরিশাল সদর-৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে কিছু নেতাকর্মীরা এলাকায় লিফলেট বিতরণ করছিলেন। লিফলেট বিতরণ শেষে তারা হাজ্বী পাম্প সংলগ্ন উঠান বৈঠকের সামনে দিয়ে ফেরার সময় হামলার শিকার হন।
এ ঘটনায় ২৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গফফার মোল্লা, জাতীয়তাবাদী আলফা-মাহিন্দ্রা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কাওছার, ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সদস্য সমির হোসেন, যুবদল নেতা মিলন মৃধা ও খোকন হাওলাদার আহত হন। গুরুতর আহত কাওছার ও গফফারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী গফফার, কাওছারসহ আহতরা অভিযোগে জানান, আমরা লিফলেট বিতরণ করাকালে ওই এলাকার সামনে দিয়ে আসতে গেলে ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দোলন প্যাদার ভাগ্নে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মন্ত্রী আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর ছেলে আশিক আব্দুল্লাহর অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা সুমনের নেতৃত্বে মিলন মোল্লা, ওয়াসিম, সিয়াম, মনির, সাব্বির ও বশিরসহ অজ্ঞাত আরও ২০/৩০ জন হামলায় অংশ নেয়। হামলাকারীরা রামদা, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তারা অভিযোগে আরও বলেন, স্থানীয় দোলন প্যাদা ও নুরে আলম খানের ইন্ধনে তাদের এসব অনুসারীরা পুর্ব-পরিকল্পিত এ হামলা চালানো হয়।
আহতরা অভিযোগে জানান, হামলাকারীর মধ্যে মাসুদ খানের ছেলে সাব্বির ৫ আগস্টের পর রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে চাঁদাবাজি করে আসছিল। যার ধরুন শ্রমিকরা তাকে উৎখাত করায় এটিও জিয়া ভাইয়ের প্রতি ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এদিকে হামলায় উভয়পক্ষ আহত হলেও উল্টো নিজেদের লোকজন আহত ও তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে জিয়াউদ্দিন সিকদারকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করছে অভিযুক্তরা বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
নেতাকর্মীরা অভিযোগে জানান,
এদিকে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো বক্তব্য প্রদানকারীর সাদ্দাম নামের একজন নিজেকে ২৪ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে পরিচয় দিয়েছেন। ওই ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, এখানে যুবদলের কোন কমিটিই নেই।
এছাড়া রফিক নামের একজন নিজেকে ২৫ নং ওয়ার্ড শ্রমিকদল নেতার পরিচয় দিয়েছেন। ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, এই ওয়ার্ডে শ্রমিকদলেরও কোন কমিটি নেই৷
বিএনপি নেতাকর্মীরা আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার পর একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তৎপর হয়ে ওঠে এবং গণমাধ্যমে নগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারের নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা শুরু করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গণমাধ্যমে যারা বক্তব্য দিয়েছেন, তারা নিজেদের বিভিন্ন ওয়ার্ডের শ্রমিকদল ও যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই ওয়ার্ডগুলোতে শ্রমিকদল বা যুবদলের কার্যকর কোনো কমিটি নেই এবং যারা বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের দলীয় কার্যক্রমে কখনো দেখা যায়নি। ফলে তাদের পরিচয় ও বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
ওয়ার্ড বিএনপির একাধিক নেতা দাবি করেছেন, গণমাধ্যমে যারা বক্তব্য দিয়েছেন, তারা দলের কেউ নন। মিথ্যা পরিচয় দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। মূলত একটি পরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ হিসেবে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারের নাম জড়ানোর চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, জিয়াউদ্দিন সিকদারের রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার কার্যক্রম, বিশেষ করে রুপাতলী এলাকায় চাঁদামুক্ত ঘোষণা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা প্রদানের কাজ অনেকের অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে হামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে সিয়াম নামের এক ব্যক্তি সমাজসেবা অফিসের সামনে কয়েকটি দোকান দখল করে চাঁদা উত্তোলন করায়, তার প্রতিবাদই মূলত জিয়াউদ্দিন সিকদারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগে জানান স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
ঘটনার পর আহত নেতাকর্মীদের পরিবার ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। তারা হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
তারা জানান, জিয়াউদ্দিন সিকদার একজন পরিচিত মৃত্যুঞ্জয়ী নেতা। তিনি বিএনপির একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মী। জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন ও সুশাসনেও তার অবদান সুপরিচিত। রুপাতলী বাস মালিক সমিতির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি এলাকাকে চাঁদামুক্ত হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, আওয়ামী লীগের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে এ হামলাটি চালায়। আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।